
আমি খুব ভুলো মনের মানুষ। এঘর থেকে ওঘরে গিয়ে কেন এসেছি ভুলে যাই।বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় যাওয়ার জন্য বেরিয়েছি ভুলে যাই।বাইরে বেরোবার সময় আলামারি খুলে জামা বের করতে গিয়ে ফ্রিজ খুলে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকি।
ঠিক যেমন গতবার WOMAYAA online magazine এ আমার একটি রেসিপি বেরিয়েছিল, এবারও মালবিকা দি কবে থেকে আমাকে বলে রেখেছে রেসিপির জন্য কিন্তু আমি যথারীতি ভুলে গেছি। শেষ মুহূর্তে মালবিকাদি আবার তাড়া দিতেই মনে পড়লো রেসিপি দেওয়ার কথা।
তাই ভাবলাম ভুল করা যে সবসময় খারাপ হয় এমনটা নয়।তাই সেই রকমই একটা মিষ্টির রেসিপি দিই যা ভুল করে তৈরি হয়েছিল, যে ভুল টা না হলে আজ আমরা এত ভালো একটা মিষ্টি পেতাম না। তাই ভুল করা মাঝে মাঝে ভালো।
১৯৪০ এর দশকে ওড়িশার নয়াগড়ের সুদর্শন সাদু নামে একজন নামকরা মিষ্টির কারিগর ছিলেন।তিনি একবার রাতে ভুল করে ছানা গরম উনুনের ওপর রেখে চলে গিয়েছিলেন। ভোরবেলা ফিরে এসে দেখেন ছানা নিচের থেকে পুড়ে গেছে কিন্তু তার স্বাদ একদম অন্যরকম হয়ে গেছে। তারপরই তিনি ছানার সাথে আরোও কিছু জিনিস মিশিয়ে তৈরি করলেন সেই অন্যবদ্য মিষ্টি ছানা পোড়া। যা প্রসিদ্ধ হলো সারা দেশ জুড়ে।
ছানা পোড়া (১পাউন্ড)
উপকরণ: ছানা ৩০০ গ্রাম, সুজি দুই টেবিল চামচ, চিনি ৬ টেবিল চামচ, এক চিমটে লবণ, ঘি ১ টেবিল চামচ, খোয়া ক্ষীর অথবা মিল্ক পাউডার ৩০ গ্রাম।
প্রণালী: সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে খুব ভালো করে আগে মাখিয়ে নিতে হবে। তারপর জল দিয়ে একটু নরম একটা ব্যাটার তৈরি করতে হবে। ব্যাটার তৈরি হলে সেটাকে ফ্রিজে ৩/৪ ঘণ্টা রেখে দিলে দেখা যাবে ব্যাটার টা একটু ফুলে উঠেছে সুজি থাকার জন্য। তারপর নরমাল টেম্পারেচার এ নিয়ে এসে। একটা করা ওভেন ও বসিয়ে তাতে বেশি করে নুন নিয়ে দশ মিনিট গরম করতে হবে একটা ঢাকনা দিয়ে।
তারপর একটা পাত্রে ঘি মাখিয়ে তাতে বাটার পেপার বা শালপাতা বিছিয়ে দিতে হবে। এবার তার ওপর ওই ব্যাটার টা ঢেলে দিয়ে কড়ায় লবণের ওপর বাটি টা বসিয়ে, চাপা দিয়ে লো ফ্লেম এ ৫০ মিনিট রাখতে হবে। তারপর গ্যাস বন্ধ করে আরোও ৪০ মিনিট মতো স্ট্যান্ডিং টাইম দিলেই ছানা পোড়া তৈরি।
দিদার হেঁশেল
ডিসেম্বর, ২০২৫