ডিসেম্বর

“We Write. We Rise” – Voices from Within by Our Writers

...

ডিসেম্বর

আসমানী কয়েকটা ফয়সালা করতে করতে বাইশটা শীত চলে যাচ্ছে। অভিমানের আগে ছিল অনুরাগ, অভিমানের পরে এলো মধুকোষ। অসুস্থতা যখন স্বাবলম্বী হয়, তাতে কিছুক্ষন সার পড়লেই দগদগ করে ওঠে। এখন নাড়া দিলেও একটা পশমের লেপের তলা থেকে উঠতে সে নারাজ। আমার ব্যতিক্রমী খ্রিস্টমাস এসে পড়েছে, সাবলীল, নিয়মমতে। রুক্ষ নয়, জীর্ণ নয়। একটা ফড়িঙের ভিজে গায়ের মতন উচ্ছাস তার। কাছে আসতেই গা বেয়ে গরম মাফিনের নিশ্বাস পড়ছে। এক, দুই, পাঁচ। পাঁচটা খ্রিষ্ট মন্ত্র চোখ বন্ধ করে পড়ার পর এমন মনোরম শীত এলো। মুগ্ধতা এলো। এলো মেঘলা মমতাজ। 

পার্ক স্ট্রিটে ভরাট আলোর দোলনা। নওয়াবের পোষা হলুদ পাখিদের মতন কিচিরমিচির চারিদিকে। একটা ভারি উষ্ণ অভ্যর্থনা কাঁধের উপর দিয়ে লেঙচে বেরিয়ে গেল। দেখি, আনন্দ আর উন্মাদনায় ভাসাতে খানসামারা প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর কোণে। আর মিছিল করেছে চারিধারে, লাল টুপির কোলাহল। মনে হল আমি চুপঘুমের মগ্নতায় হয়তো মরুগোলাপি শীতটুকুন আটকে দেব। সাপের মতন দুধারে যে রাস্তা চলে গেছে, তার কোলে বসে গানের লড়াই খেলছে শহুরে ইচ্ছেগুলো। বছরান্তে, স্বপন সুর। আবার সেই স্পর্শ। সিলুয়েটের মতন নয়, পুরনো গ্রামোফোনের মতন কদর মাখানো। কাঁধের উপর চিকচিকে জোৎস্না সমেত পড়তেই মনে হলো, এইতো, উৎসব শুরু হবে। ফ্লুরিজ ডাকলো, বললো অতি সাবধানে গরম কফির ফোম ঠোঁটের উপর সাজাতে।

কোন অবরোধের সংপর্শে ঠোঁট এতদিন শিথিল ছিল, কে জানে। হঠাৎ করেই একটা অতিরিক্ত মাফলারের প্রয়োজন পড়ে আজকাল, মাঝেমাঝে। ডান হাতের কাছটাতে একটা অনামী চার্চ। ভয়ানক রোশনাই এর  আস্পর্ধা সে পাড়ায়। কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই ভেসে আসছে আমেজি পাশ্চাত্য গুনগুন। ভাবলাম জন্মশিশুকে অভিনন্দন জানাব না একবার? ভিতরে ঢুকে বুঝলাম, খুব সহজ মানুষদের ভিড় সেখানে। নীলচে নেশার মতন টেনে চলেছে মোমবাতির অসহিষ্ণুতা। চোখ বন্ধ করলাম। মনে পড়লো, প্রতি বড়দিনে মোজায় মোড়া কতো কতো বালুচরী সকাল।  খ্রিস্টমাস ক্যারলের বৈষ্ণবতায় মজে এখন আশাবাদী সেসব। জানলার গা চেপে হিম ভেজা বোগেনভেলিয়া। আবার দুটো ইচ্ছে। পাঁচটা বেহায়া আবদার। বাইরে আলতো করে নেমে এলো, মরশুমি উপহারে সাজানো সায়ন্তন।

উপাসনা ভট্টাচার্য

ডিসেম্বর, ২০২৫